পিতা-স্বামী-পুরুষ (ছোট গল্প)

ভোর ৫টা। ঘুম থেকে উঠে কলিমের ফুটপাতে পায়চারি। আধো ঘুমে হাইতুলে ঘুম তাড়ানোর চেষ্টা।

কলিমের ৪ বছরের এক মেয়ে ‘লিমা’।
বস্তির খুপরিতে ২১ বছরের রূপার সাথে তার ৫ বছরের সংসার।

পরশু কুরবানের ঈদ।
ঈদের কোনো মানে নেই।

গতকাল সেমাই কিনেছে কলিম। চিনি দুধ আছে ঘরে।
রূপা আরো আগে উঠে কাগজ কুড়াতে বেড়িয়েছে।
মেয়েটাও হাফ প্যান্ট পড়ে উদোম গায়ে মার পিছে পিছে হাটছে।
হাতে প্লাস্টিকের ছোট চুড়ি পরা।

কলিম চিৎকার করে খিস্তি ছাড়ল বৌএর উপর।
“বাচ্চা নিয়া বাড়িত আর আইস না। মছিদের সামনে দাড়ায়া কয়ডা টাকা তুলতে পারলিনা! “
নাস্তা নাই ঘরে। মুড়িও শেষ।

খালি পেটেই বেরুলো কলিম।
পুরান ঢাকায় পানির ড্রেনের কাজ চলে। কয়েকদিন ধরেই করছে। ইট টানা। বালি টানা।
আজও যদি কাজ পাওয়া যায়।…

অনেক অনুনয় করে একটা কাজ পেল।
পুরাতন সুয়ারেজ লাইনে নেমে ময়লা তুলতে হবে।
ঢাকনা খুলতেই মাথা গুলিয়ে উঠল তার।
বেজায় গন্ধ।

নিজেকে গাল দিতে দিতে কুচ কুচে কালো নর্দমায় নেমে পড়ল।

সারা দিন….
৬৫০ টাকা। ৫০ টাকা সরদারের কমিশন।

পড়ন্ত বিকলে কলিম রুপা আর লিমা।
এক ঘরের সংসার।
চোড়া লাইনের এনার্জিলাইটে চকচক করছে চৌকির মাঝে রাখা ৩০০ টাকার লিমার জামা।
আর ৬৫০ টাকার রুপার লাল শাড়ি।

“ঈদে সেমাই রানবি। বাপ বেটি খামু।” বলেই কলিম বাইরে বের হয়ে গেল।

মেয়ের নাচ আর রুপার চোখের খুসি দেখে বুকটা হুহু করে উঠল।
চোখের কোণে পানি কলিমের।

বিড়ি ফুকতে ফুকতে তাস খেলতে রজব মিস্ত্রীর চা দোকানের পথে পা বাড়ায় কলিম।

সাথী হয় সার্থকতার অহংকার। ♥

হাসান ইবনে আমিন

১৫ জুন ২০১৮।

ছবি: কালেক্টেড

Leave a Comment